ওহে ভাই, মন কেন ব্রহ্ম হ’তে চায়।
কি আশ্চর্য ক’ব কা’কে, সদোপাস্য বল’ যাঁকে,
তাঁ’তে কেন আপনে মিশায় ॥ ১ ॥
বিন্দু নাহি হয় সিন্ধু, বামন না স্পর্শে ইন্দু,
রেণু কি ভূধর-রূপ পায়?
লাভ মাত্র অপরাধ, পরমার্থ হয় বাধ,
সাযুজ্যবাদীর হায় হায় ॥২॥
এ হেন দুরন্ত বুদ্ধি, ত্যজি’
কর’ সত্ত্বশুদ্ধি,
অন্বেষহ
প্রীতির
উপায়।
‘সাযুজ্য’-‘নির্বাণ’ -আদি, শাস্ত্রে শব্দ দেখ যদি,
সে-সব ভক্তির অঙ্গে যায় ॥৩॥
কৃষ্ণ-প্রীত ফলময়, ‘তত্ত্বমসি’ আদি হয়,
সাধক চরমে কৃষ্ণ পায়।
অখণ্ড আনন্দময়, বৃন্দাবন কৃষ্ণালয়,
পরব্রহ্ম-স্বরূপ জানায় ॥৪॥
তা’ হ’তে কিরণ-জাল, ব্রহ্মরূপে
শোভে ভাল,
মায়িক জগৎ চমৎকার।
মায়াবদ্ধ জীব তাহে, নির্বৃত
হইতে চাহে,
সূর্যাভাবে খদ্যোতের প্রায় ॥৫॥
যদি কভু ভাগ্যোদয়ে, সাধু-গুরু-সমাশ্রয়ে,
বৃন্দাবন সম্মুখেতে ভায়।
কৃষ্ণাকৃষ্ট হ’য়ে তবে, ক্ষুদ্ররস-অনুভবে,
ব্রহ্ম ছাড়ি’ পরব্রহ্মে ধায় ॥৬॥
শুকাদির সুজীবন, কর’ ভাই আলোচন,
এ দাস ধরিছে তব পায় ॥৭॥

কোন মন্তব্য নেই