কবে মোর মূঢ় মন ছাড়ি’ অন্য ধ্যান।
কবে মোর মূঢ় মন ছাড়ি’ অন্য ধ্যান।
শ্রীকৃষ্ণ-চরণে পা’বে বিশ্রামের স্থান ॥১॥
কবে আমি জানিব আপনে অকিঞ্চন।
আমার অপেক্ষা ক্ষুদ্র নাহি অন্য জন ॥২॥
কবে আমি আচণ্ডালে করিব প্রণতি।
কৃষ্ণভক্তি মাগি’ ল’ব করিয়া মিনতি ॥৩॥
সর্বজীবে দয়া মোর কতদিনে হ’বে।
জীবের দুর্গতি দেখি’ লোতক পড়িবে ॥৪॥
কাঁদিতে কাঁদিতে আমি যা’ব বৃন্দাবন।
ব্রজধামে বৈষ্ণবের লইব শরণ ॥৫॥
ব্রজবাসি-সন্নিধানে যুড়ি’ দুই কর।
জিজ্ঞাসিব লীলা-স্থান হইয়া কাতর ॥৬॥
ওহে ব্রজবাসি ! মোরে অনুগ্রহ করি’।
দেখাও কোথায় লীলা করিলেন হরি ॥৭॥
তবে কোন ব্রজজন-সকৃপ-অন্তরে।
আমারে যা’বেন ল’য়ে বিপিন-ভিতরে ॥৮॥
বলিবেন, দেখ এই কদম্ব-কানন।
যথা রাসলীলা কৈলা ব্রজেন্দ্রনন্দন ॥৯॥
ঐ দেখ নন্দগ্রাম নন্দের আবাস।
ঐ দেখ বলদেব যথা কৈলা রাস ॥১০॥
ঐ দেখ যথা হৈল দুকুল-হরণ।
ঐ স্থানে বকাসুর হইল নিধন ॥১১॥
এইরূপ ব্রজ জনসহ বৃন্দাবনে।
দেখিব লীলার স্থান সতৃষ্ণ নয়নে ॥১২॥
কভু বা যমুনাতীরে শুনি’ বংশীধ্বনি।
অবশ হইয়া লাভ করিব ধরণী ॥১৩॥
কৃপাময় ব্রজ-জন ‘কৃষ্ণ’ ‘কৃষ্ণ’ বলি’।
পান করাইবে জল পূরিয়া অঞ্জলি ॥১৪॥
হরিনাম শুনে পুনঃ পাইয়া চেতন।
ব্রজজন-সহ আমি করিব ভ্রমণ ॥১৫॥
কবে হেন শুভদিন হইবে আমার।
মাধুকরী করি’ বেড়াইব দ্বার দ্বার ॥১৬॥
যমুনা-সলিল পিব অঞ্জলি ভরিয়া।
দেবদ্বারে রাত্রিকালে রহিব শুইয়া ॥১৭॥
যখন আসিবে কাল এ ভৌতিক পুর।
জলজন্তু-মহোৎসব হইবে প্রচুর ॥১৮॥
সিদ্ধ দেহে নিজ-কুঞ্জে সখীর চরণে।
নিত্যকাল থাকিয়া সেবিব কৃষ্ণধনে ॥১৯॥
এই সে প্রার্থনা করে’ এ পামর ছার।
শ্রীজাহ্নবা মোরে দয় কর’এইবার ॥২০॥

কোন মন্তব্য নেই