মঙ্গলাচরণ || ষড়তত্ত্ব
মঙ্গলাচরণ
ষড়তত্ত্ব
চৈঃ
চঃ আদি ১.১
বন্দে
গুরূনীশভক্তানীশমীশাবতারকান্
।
তৎপ্রকাশাংশ্চ তচ্ছক্তীঃ কৃষ্ণচৈতন্যসংজ্ঞকম্ ৷
আমি
দীক্ষা ও শিক্ষা ভেদে
গুরুবর্গের, পরমেশ্বর ভগবানের ভক্তবৃন্দের (শ্রীবাস আদি), পরমেশ্বর ভগবানের অবতারগণের (শ্রীঅদ্বৈত আচার্য আদি), পরমেশ্বর ভগবানের প্রকাশসমূহের (শ্রীনিত্যানন্দ আদি), পরমেশ্বর ভগবানের শক্তিসমূহের (শ্রীগদাধর আদি) এবং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য
নামক পরমেশ্বর ভগবানের বন্দনা করি ।
সূর্য
ও চন্দ্রের উদয়
চৈঃ
চঃ আদি ১.২
বন্দে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-নিত্যানন্দৌ সহোদিতৌ । ]
গৌড়োদয়ে পুষ্পবন্তৌ
চিত্রৌ শন্দৌ তমোনুদৌ ॥
গৌড়দেশের
পূর্ব দিগন্তে একই সময়ে অতি
বিস্ময়করভাবে সূর্য ও চন্দ্রের মতো
যাঁরা উদিত হয়েছেন, সেই
পরম মঙ্গলপ্রদাতা এবং অজ্ঞান ও
অন্ধকারনাশক শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু ও শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুকে
আমি বন্দনা করি ।
পরম
সত্যের ত্রিবিধ প্রতীতি
চৈঃ
চঃ আদি ১.৩
যদদ্বৈতং
ব্রহ্মোপনিষদি তদপ্যস্য তনুভা
য আত্মান্তর্যামী পুরুষ
ইতি সোঽস্যাংশবিভবঃ।
ষড়ৈশ্বর্যৈঃ পূর্ণো য ইহ ভগবান্
স স্বয়ময়ং
ন চৈতন্যাৎ কৃষ্ণাজ্জগতি পরতত্ত্বং পরমিহ ৷৷
উপনিষদে
যাঁকে নির্বিশেষ ব্রহ্মরূপে বর্ণনা করা হয়েছে, তা
তাঁর (এই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের) অঙ্গকান্তি ।
যোগশাস্ত্রে যোগীরা যে পুরুষকে অন্তর্যামী
পরমাত্মা বলেন, তিনিও তাঁরই (এই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের) অংশ-বৈভব
। তত্ত্ববিচারে যাঁকে ষড়ৈশ্বর্যপূর্ণ ভগবান বলা হয়, তিনিও
স্বয়ং এই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যেরই অভিন্ন স্বরূপ। এই
জগতে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য থেকে ভিন্ন পরতত্ত্ব
আর কিছু নেই ।
চৈতন্যাবতারের
বাহ্য কারণ
চৈঃ
চঃ আদি ১.৪
অনর্পিতচরীং চিরাৎ করুণয়াবতীর্ণঃ কলৌ সমর্পয়িতুমুন্নতোজ্জ্বলরসাং স্বভক্তিপ্রিয়ম্।
হরিঃ পুরটসুন্দরদ্যুতিকদম্বসন্দীপিতঃ সদা হৃদয়কন্দরে স্ফুরতু
বঃ শচীনন্দনঃ ৷৷
পূর্বে
বহুকাল পর্যন্ত যা অর্পিত হয়নি
এবং উন্নত ও উজ্জ্বল রসময়ী
নিজের ভক্তিসম্পদ দান করার জন্য
যিনি করুণাবশত কলিযুগে অবতীর্ণ হয়েছেন, যিনি স্বর্ণ থেকেও
সুন্দর দ্যুতিসমূহ দ্বারা সমুদ্ভাসিত, সেই শচীনন্দন শ্রীহরি
সর্বদা তোমাদের হৃদয়- কন্দরে স্ফুরিত হোন ।
রাধা-কৃষ্ণের চিন্ময় স্বরূপ
চৈঃ
চঃ আদি ১.৫
রাধা
কৃষ্ণপ্রণয়বিকৃতিহ্লাদিনীশক্তির
স্মা- দেকাত্মানাবপি ভুবি পুরা দেহভেদং
গতৌ তৌ । চৈতন্যাখ্যং
প্রকটমধুনা তদ্বয়ং চৈক্যমাপ্তং রাধাভাবদ্যুতিসুবলিতং নৌমি কৃষ্ণস্বরূপম্ ॥
শ্রীরাধিকা শ্রীকৃষ্ণের
প্রণয়ের বিকার-স্বরূপা; সুতরাং শ্রীমতী রাধারাণী শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনী শক্তি । এই জন্য
শ্রীমতী রাধারাণী ও শ্রীকৃষ্ণ একাত্মা
হলেও তাঁরা অনাদিকাল থেকে গোলোকে পৃথক
দেহ ধারণ করে আছেন।
এখন সেই দুই চিন্ময়
দেহ পুনরায় একত্রে যুক্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নামে
প্রকট হয়েছেন । শ্রীমতী রাধারাণীর
এই ভাব ও কান্তিযুক্ত
শ্রীকৃষ্ণস্বরূপ শ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যকে আমি প্রণতি নিবেদন
করি ।
চৈতন্যাবতারের
গুহ্য কারণ
চৈঃ
চঃ আদি ১.৬
শ্রীরাধায়াঃ প্রণয়মহিমা কীদৃশো বানয়ৈবা- স্বাদ্যো যেনাদ্ভুতমধুরিমা কীদৃশো বা মদীয়ঃ ।
সৌখ্যঞ্চাস্যা মদনুভবতঃ কীদৃশং বেতি লোভা- ত্তদ্ভাবাঢ্যঃ
সমজনি শচীগর্ভসিন্ধৌ হরীন্দুঃ ॥
শ্রীরাধার
প্রেমের মহিমা কি রকম, ঐ
প্রেমের দ্বারা শ্রীরাধা আমার যে অদ্ভুত
মাধুর্য আস্বাদন করেন, সেই মাধুর্যই বা
কি রকম এবং আমার
মাধুর্য আস্বাদন করে শ্রীরাধা যে
সুখ অনুভব করেন, সেই সুখই বা
কি রকম -এই সমস্ত
বিষয়ে লোভ জন্মানোর ফলে
শ্রীরাধার ভাবযুক্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণরূপ চন্দ্র
শচীগর্ভসিন্ধুতে আবির্ভূত হয়েছেন।
নিত্যানন্দ-বলরাম তত্ত্ব
চৈঃ
চঃ আদি ১.৭
সঙ্কর্ষণঃ কারণতোয়শায়ী গর্ভোদশায়ী চ পয়োক্কিশায়ী।
শেষশ্চ
যস্যাংশকলাঃ স নিত্যা- নন্দাখ্যরামঃ
শরণং মমাস্ত ৷৷
সঙ্কর্ষণ,
কারণোদকশায়ী বিষ্ণু, গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণু, ক্ষীরোদকশায়ী বিষ্ণু ও অনন্তদেব যাঁর
অংশ ও কলা, সেই
শ্রীনিত্যানন্দ নামক বলরাম আমার
আশ্ৰয় হোন ।
বৈকুণ্ঠলোকে
সঙ্কর্ষণ
চৈঃ
চঃ আদি ১.৮
মায়াতীতে
ব্যাপিবৈকুণ্ঠলোকে পূর্ণৈশ্বর্যে শ্রীচতুর্ব্যহমধ্যে রূপং যস্যোদ্নাতি সঙ্কর্ষণাখ্যং
তং শ্রীনিত্যানন্দরামং প্রপদ্যে ৷৷
মায়াতীত,
সর্বব্যাপক বৈকুণ্ঠলোকে বাসুদেব, সঙ্কর্ষণ, প্রদ্যুম্ন ও অনিরুদ্ধ –এই
পূর্ণ ঐশ্বর্য সমন্বিত চতুর্ব্যহের মধ্যে যিনি সঙ্কর্ষণরূপে বিরাজমান,
সেই নিত্যানন্দ-স্বরূপ বলরামের শ্রীচরণ-কমলে আমি প্রপত্তি
করি ।
কারণোদকশায়ী
বিষ্ণু
চৈঃ
চঃ আদি ১.৯
মায়াভর্তাজাণ্ডসংঘাশ্রয়াঙ্গঃ শেতে সাক্ষাৎ কারণাম্ভোধিমধ্যে।
যস্যৈকাংশঃ শ্রীপুমানাদিদেব- স্তং শ্রীনিত্যানন্দরামং প্রপদ্যে ৷৷
ব্রহ্মাণ্ডসমূহের
আশ্রয়রূপ এবং মায়াশক্তির অধীশ্বর
কারণ- সমুদ্রে শায়িত আদিপুরুষ কারণোদকশায়ী বিষ্ণু যাঁর এক অংশ,
সেই শ্রীনিত্যানন্দ-রূপী বলরামের শ্রীচরণ-কমলে আমি প্রপত্তি
করি ।
গর্ভোদকশায়ী
বিষ্ণু
চৈঃ
চঃ আদি ১.১০
যস্যাংশাংশঃ শ্রীল-গর্ভোদশায়ী যন্নাভ্যব্জং লোকসংঘাতনালম্ ৷
লোকস্ৰষ্টুঃ সূতিকাধামধাতু-
স্তং শ্রীনিত্যানন্দরামং প্রপদ্যে ৷৷
যাঁর
নাভিপদ্মের নাল লোকস্রষ্টা ব্রহ্মার
সূতিকাধাম ও লোকসমূহের বিশ্রামস্থান,
সেই গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণু যাঁর অংশের অংশ,
সেই শ্রীনিত্যানন্দ-রামকে আমি সশ্রদ্ধ প্রণতি
নিবেদন করি ।
ক্ষীরোদকশায়ী
বিষ্ণু
চৈঃ চঃ আদি
১.১১
যস্যাংশাংশাংশঃ পরাত্মাখিলানা পোষ্টা বিষ্ণুৰ্ভাতি দুগ্ধাক্কিশায়ী।
ক্ষৌণীভর্তা যৎকলা সোহপ্যনন্ত-
স্তং শ্রীনিত্যানন্দরামং প্রপদ্যে ৷৷
যাঁর অংশাতি-অংশের
অংশ হচ্ছেন ক্ষীরসমুদ্রে শায়িত ক্ষীরোদকশায়ী বিষ্ণু, সেই ক্ষীরোদকশায়ী বিষ্ণু হচ্ছেন
সমস্ত জীবের হৃদয়ে বিরাজমান পরমাত্মা ও সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডের পালনকর্তা এবং পৃথিবী ধারণকারী
শেষনাগ হচ্ছেন যাঁর কলা, সেই শ্রীনিত্যানন্দরূপী বলরামের শ্রীচরণ-কমলে আমি প্রপত্তি
করি ৷
চৈঃ চঃ আদি
১.১২
মহাবিষ্ণুর্জগৎকর্তা মায়য়া যঃ সৃজত্যদঃ ।
তস্যাবতার এবায়মদ্বৈতাচার্য ঈশ্বরঃ ॥
যে মহাবিষ্ণু
মায়াশক্তির দ্বারা এই জগৎকে সৃষ্টি করেন, তিনি জড় জগতের সৃষ্টিকর্তা। শ্রীঅদ্বৈত
আচার্য ঈশ্বর তাঁরই অবতার ।
ভক্তিতত্ত্ব
শিক্ষক; ভক্তাবতার
চৈঃ চঃ আদি
১.১৩
অদ্বৈতং হরিণাদ্বৈতাদাচার্যং ভক্তিশংসনাৎ ।
ভক্তাবতারমীশং তমদ্বৈতাচার্যমাশ্রয়ে ৷
ভগবান শ্রীহরি
থেকে অভিন্ন তত্ত্ব বলে তাঁর নাম অদ্বৈত এবং ভক্তিতত্ত্ব শিক্ষা দেন বলে তিনি আচার্য
নামে খ্যাত, সেই ভক্তাবতার অদ্বৈতাচার্য ঈশ্বরকে আমি আশ্রয় করি ।
পঞ্চতত্ত্ব
চৈঃ চঃ আদি
১.১৪
পঞ্চতত্ত্বাত্মকং কৃষ্ণং ভক্তরূপস্বরূপকম্ ।
ভক্তাবতারং ভক্তাখ্যং নমামি ভক্তশক্তিকম্ ॥
ভক্তরূপ, ভক্তস্বরূপ,
ভক্তাবতার, ভক্ত ও ভক্তশক্তি - এই পঞ্চতত্ত্বাত্মক শ্ৰীকৃষ্ণকে প্রণতি নিবেদন করি।
সম্বন্ধাধিদেব
প্রণাম
চৈঃ চঃ আদি
১.১৫ জয়তাং সুরতৌ পঙ্গোমম মন্দমতের্গতী মৎসর্বস্বপদাম্ভোজৌ রাধামদনমোহনৌ ৷
আমি পঙ্গু ও
মন্দমতি; যাঁরা আমার একমাত্র গতি, যাঁদের পাদপদ্ম আমার সর্বস্বধন, সেই পরম কৃপালু রাধা-মদনমোহন
জয়যুক্ত হোন ।
অভিধেয়াধিদেব
প্রণাম
চৈঃ চঃ আদি
১.১৬
দীব্যবৃন্দারণ্যকল্পদ্রুমাধঃ-
শ্রীমদরত্নাগারসিংহাসনস্থৌ ।
শ্রীমদ্রাধা-শ্রীলগোবিন্দদেবৌ
প্রেষ্ঠালীভিঃ
সেব্যমানৌ স্মরামি ৷৷
জ্যোতির্ময়
শোভাবিশিষ্ট বৃন্দাবনের অরণ্যে কল্পবৃক্ষতলে রত্ম- মন্দিরস্থ সিংহাসনের উপরে উপবিষ্ট
শ্রীশ্রীরাধা-গোবিন্দ তাঁদের অন্তরঙ্গ পার্ষদবৃন্দ (সখীগণ) কর্তৃক সেবিত হচ্ছেন । আমি
তাঁদের স্মরণ করি।
প্রয়োজনাধিদেব
প্রণাম
চৈঃ চঃ আদি
১.১৭
শ্রীমান রাসরসারম্ভী বংশীবটতটস্থিতঃ।
কর্ষন বেণুস্বনৈগোপীগোপীনাথঃ ক্ৰিয়েঽস্তু নঃ ॥
রাসনৃত্য রসের
প্রবর্তক বংশীবট-তটস্থিত পরম সুন্দর শ্রীগোপীনাথ বেণুধ্বনি দ্বারা গোপীগণকে আকর্ষণ
করেন । তিনি আমাদের মঙ্গল বিধান করুন ।
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই