সংক্ষিপ্তরূপে সাল অনুযায়ী শ্রীল প্রভুপাদের মহান জীবনী
১. জন্ম- ১ লা সেপ্টেম্বর, নাম- অভয়চরণ দে, পিতা- গৌরমোহন দে, মাতা- রজনী দেবী
ভবিষ্যদ্বানী- তিনি ৭० বছর বয়সে সন্ন্যাস গ্রহণ করে সারা পৃথিবী জুড়ে ১০৮টি রাধাকৃষ্ণ মন্দির প্রতিষ্ঠা করবেন ও সর্বত্র বৈদিক শিক্ষা প্রচার করবেন। পরবর্তিতে সত্য যা প্রমাণিত হয়েছিল।
২. পুত্রের অনুরোধে শ্রীগৌরমোহন দে ছোটবেলাতেই অভয়কে শ্রী শ্রীরাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ কিনে দেন এবং বিগ্রহ সেবার শিক্ষা প্রদান করেন।
৩. পাঁচ বছর বয়সে অভয় বন্ধুদের সাথে নিয়ে একটি ছোট রথযাত্রার আয়োজন করেছিলেন।
৪. ১৯১৬ -শ্রীল প্রভুপাদ হ্যারিসন রোডে মোতিলাল শীল বিদ্যালয়ে শিক্ষাপ্রাপ্তির পর স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শনের ছাত্র হিসেবে ভর্তি হন।
৫. ১৯২১ – শ্রীল প্রভুপাদ বসু ল্যাবরেটরির সহকারী ম্যানেজার পদে নিযুক্ত হন ও গান্ধীজীর আন্দোলনে যোগদান করেন।
৬. ১৯২২ - শ্রীল প্রভুপাদ কলকাতার উল্টোডাঙায় শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের সাথে প্রথম সাক্ষাৎ করেন।
৭. ১৯৩৩ - শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের নিকট দীক্ষাপ্রাপ্ত হন।
৮. ১৯৩৫ সালে বৃন্দাবনের রাধাকুণ্ডের তীরে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর তাঁর শিষ্য অভয়কে বলেছিলেন- যদি কখনো অর্থ পাও তাহলে গ্রন্থ প্রকাশ করো।
৯. ১৯৩৯ - শ্রীল প্রভুপাদ গৌড়য় মঠ থেকে অতি সম্মানিয় 'ভক্তিবেদান্ত' উপাধি লাভ করেন।
১০. ১৯৪৪- শ্রীল প্রভুপাদ একক সংগ্রামের দ্বারা 'Back to Godhead' ম্যাগাজিনের প্রকাশনা এবং নিজে প্রচার শুরু করেন।
১১. ১৯৫০ সালে ঝাঁসিতে শ্রীল প্রভুপাদ লীগ অফ ডিভোটিস নামে বিশ্বব্যাপী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেন।
১২. ১৯৫৪- শ্রীল প্রভুপাদ গৃহস্থ জীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে বানপ্রস্থ গ্রহণ করেন ও কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের মহানকার্যে ব্রতী হন।
১৩. ১৯৫৯ ১৭ই সেপ্টেম্বর অভয় শ্রীল ভক্তিপ্রজ্ঞান কেশব মহারাজের কাছে সন্ন্যাস দীক্ষা লাভ করেন। নতুন নাম হয় শ্রী শ্রীমৎ অভয়চরনারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী।
১৪. ১৯৫৯ সালে শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীমদ্ভাগবতের অনুবাদ কার্য প্রারম্ভ করেন বৃন্দাবনের রাধাদামোদর মন্দির থেকে।
১৬. আমেরিকা যাওয়ার পূর্বে বৃন্দাবনের রাধাদামোদর মন্দিরে শ্রীল প্রভুপাদ অবস্থান করতেন। সেখান থেকেই তিনি শ্রীল রূপ গোস্বামীর কাছে প্রার্থনা করতেন কিভাবে তিনি সারা বিশ্বে প্রচার করবেন।
১৭. ১৯৬০ শ্রীল প্রভুপাদ ভগবদ গীতার শিক্ষার উপর ভিত্তি করে। Easy Journey to Other Planets' নামক তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত করেন যা বিজ্ঞানমহলে বিশেষভাবে প্রশংসা অর্জন করে।
১৮. ১৯৬২ সালে শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীমদ্ভাগবতের প্রথম খন্ডটি প্রকাশিত করেন। এটি শিক্ষিতমহলে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, শ্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতি, জাকির হুসেন এই গ্রন্থের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
১৯. ১৯৬৫ - শ্রীল প্রভুপাদ ১৩ই আগস্ট কলকাতার খিদীরপুর ডক থেকে “জলদূত” জাহাজে করে আমেরিকার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন। যাত্রাকালে তিনি দুবার হৃদরোগের দ্বারা আক্রান্ত হন। ১৭ই সেপ্টেম্বর তিনি বোস্টনে পাশ্চ্যাত্যের মাটিতে প্রথম পদার্পণ করেন।
২০. আমেরিকাতে বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারে ব্রতী হয়েছিলেন। ‘Matchless Gifts’ নামের এক দোকানঘর থেকে শ্রীল প্রভুপাদ কৃষ্ণভাবনামৃত সম্পর্কে শিক্ষাপ্রদান করতে শুরু করেন।
২১. শ্রীল প্রভুপাদ এই স্মারকলিপিটি কিনেছিলেন যেটা তিনি তাঁর ভগবদগীতা পাঠের সময় ব্যাবহার করতেন।
২২. ১৯৬৬ - শ্রীল প্রভুপাদ ২০শে জুলাই নিউ ইয়র্কে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ তথা ইস্কন প্রতিষ্ঠা করেন।
২৩. ১৯৬৬ সালে ৮ই সেপ্টেম্বর পাশ্চ্যাত্যে প্রথম দীক্ষা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং ১১ জনকে দীক্ষা প্রদান করেন।
২৪. ১৯৬৭ সালের ৯ জুলাই সানফ্রানসিসকো শহরের রাজপথে পাশ্চ্যাত্যের মাটিতে প্রথম রথযাত্রার আয়োজন করেন।
২৫. ১৯৬৮ সালে শ্রীল প্রভুপাদের প্রাঞ্জল ব্যাখ্যা সমন্বিত ভগবদগীতা ম্যাকমিলান কোম্পানি প্রকাশ করে এবং অতি শীঘ্রই সেই গ্রন্থ সুখ্যাতির শিখরে পৌঁছায়।
২৬. ১৯৬৯ - শ্রীল প্রভুপাদ ২৩শে জুলাই লস এঞ্জেলেস শহরে ইস্কনের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৪ই ডিসেম্বর তিনি লন্ডনে শ্রীশ্রী রাধালন্ডনীশ্বর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন।
২৭. ১৯৭০ - শ্রীল প্রভুপাদ বৃহৎমাত্রায় কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রন্থের প্রকাশনার জন্য ভক্তিবেদান্ত বুক ট্রাস্ট (BBT) প্রতিষ্ঠা করেন।
২৮. ১৯৭১ - শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর ৪০জন বিদেশী শিষ্যদের নিয়ে বৃন্দাবন পরিক্রমায় যান।
২৯. ১৯৭২ - শ্রীল প্রভুপাদ পাশ্চাত্যে বৈদিক শিক্ষা পদ্ধতির প্রবর্তনের হেতু টেক্সাসে ডালাস শহরে গুরুকুল প্রতিষ্ঠা করেন।
২৯. ১৯৭২ সালের মে মাসে শ্রীল প্রভুপাদ হৃদয়ানন্দ, সৎস্বরূপ, রূপানুগ এবং বলি-মর্দানকে সন্ন্যাস দীক্ষা প্রদান করেন।
৩০. ১৯৭৩ শ্রীল প্রভুপাদ সালের জুলাই মাসে লন্ডনে বিশাল রথযাত্রার আয়োজন করেন।
৩১. ১৯৭৫ - শ্রীল প্রভুপাদ ১৭টি খন্ডে শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী দ্বারা রচিত, চৈতন্য চরিতামৃতের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত করেন।
৩১. ১৯৭৬ - শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর কতিপয় বৈজ্ঞানিক শিষ্যদের নিয়ে ইস্কনের বিজ্ঞান ও শিক্ষা বিভাগ ‘ভক্তিবেদান্ত ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।
৩২. শ্রীল প্রভুপাদ ইস্কনের ভবিষ্যৎ পরিচালন পদ্ধতি সম্পর্কে বিবেচনা করে গঠন করেন- জি. বি. সি. (GBC) বা গভর্নিং বডি কমিশন, যার কাজ হল শ্রীল প্রভুপাদের প্রতিনিধি রূপে সমস্ত বিশ্বে ইস্কনকে পরিচালিত করা।

কোন মন্তব্য নেই