জয়পতাকা স্বামীর জীবনী'




 জন্মঃ ৯ই এপ্রিল, ১৯৪৯, তিথিঃ কামদা একাদশি, স্থানঃ  যুক্তরাষ্ট্রের উইসকন্‌সিন প্রদেশের মিলৌকি শহর। নামঃ গর্ডন জন (জয়) 

পিতার নামঃ গর্ডন জন, মাতাঃ লরেইন্ গোলিচ্ , ভাইঃ জেফ, বোনঃ জ্যান্ 


2. শৈশবকাল থেকেই আধ্যাত্মিকতায় অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও মহান কৌতূহলতা প্রদর্শন করেন। মাত্র এগারো বছর, তাঁর পিতামহের পরামর্শে তিনি ভগবানের দিব্য নাম জপ করার মাধ্যমে এক চর্মরোগের থেকে আরোগ্য লাভ করেন। 


3. মাত্র ১৪ বছর বৎসর বয়সে তিনি সেন্ট জন্স নর্থওয়েস্টার্ন মিলিটারি একাডেমি (SJNMA) তে যোগদান করেন।


4. ব্যাজার পেইন্ট এণ্ড হার্ডওয়্যার সেন্টার, একটি বহু-কোটী ডলারের কোম্পানি, যার উত্তরাধিকারী ছিলেন জয়। 


5. ইস্কনে যোগদান- ১৯৬৮ সালে, স্থানঃ কেনাডার মন্ট্রিল মন্দির, সময়ঃ রথযাত্রা। 


6. ১৯৬৮ সালের ২৪ জুলাই মন্ট্রিয়েল মন্দিরে শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের কাছ থেকে দীক্ষা গ্রহন করে শ্রী জয়পতাকা দাস ব্রহ্মচারী নামে পরিচিত হন।  


7. ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশে আন্তজাতির্ক কৃষ্ণভাবনমৃত সংঘ স্থাপনের জন্য পূর্ণভূমি ভারতবর্ষে প্রথম পদার্পণ।  


8. ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে রাধাষ্টমীর পুণ্য তিথিতে  কোলকাতায় শ্রীল প্রভুপাদের কাছ থেকে সন্ন্যাস দীক্ষা লাভ করেন। নতুন নাম হয় শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী। শ্রীল প্রভুপাদের প্রথম ১১ জন সন্ন্যাসী শিষ্যদের মধ্যে অন্যতম। 


9. শ্রীল প্রভুপাদের স্বপ্ন ছিল মায়াপুরকে বৈদিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার, তাই  শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীমায়াপুর ধাম প্রকল্পের উন্নতি বিকাশ সাধনের জন্য তাঁর সুযোগ্য শিষ্য শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামীর হস্তে দায়িত্বভার অর্পণ করেন এবং নির্দেশ দেন- “জয়পতাকা স্বামী, আমি তোমাকে ভগবানের ধাম দিলাম, এখন তুমি এর উন্নতি বিধান কর।”  এই নির্দেশকে হৃদয়ে গ্রহণ করে তিনি শ্রীমায়াপুর ধামের উন্নয়ন সাধনে সহযোগিতার জন্য এক মহান কৃতিত্বপূর্ণ সেবা সম্পাদন করে চলেছেন। 


10. ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল  অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজকে ব্রহ্ম-মাধ্ব-গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের এক আচার্যরূপে অভিষিক্ত করেন এবং দীক্ষা গুরু রূপে স্বীকৃতি প্রদান করেন। 


11. ১৯৭৮ সালে ভয়ঙ্কর বন্যার প্লাবনে পশ্চিমবঙ্গের জনজীবনে যখন চরম দুর্গতি, তখন তিনি আর্ত মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেন বন্যাদুর্গত গ্রামবাসীদের কাছে নৌকা থেকে সকলের জন্য তিনি খিচুড়ী প্রসাদ বিতরণ করেন। 


12. ভারতবাসীদের বিশেষ করে বাংলার বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলে তাঁর অকুণ্ঠ সেবার স্বীকৃতী স্বরূপ ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করেন। 


13. শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী তাঁর নব আবিষ্কৃত কৃষি বিষয়ক জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ করেন। 


14. শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ব্যাপকভাবে সারা পৃথিবী ভ্রমণ করে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে হরিনাম মহামন্ত্র বিতরণ করে যাচ্ছেন।  


15. শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ এমনই এক বৈষ্ণব যিনি জীবনে কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ তোলেননি। সহিষ্ণুতার এই মূর্ত বিগ্রহ ভক্ত সমাজে ‘ক্ষমা কর এবং ভুলে যাও’ নীতির শিক্ষা দিচ্ছেন সবাইকে। এমনকি তিনি তাঁর হত্যার প্রচেষ্টাকারীকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন অবিচলিত চিত্তে।


 



16. শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজ ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অন্তরঙ্গ পার্ষদ শ্রীল পুণ্ডরীক বিদ্যানিধির আবির্ভাবস্থল শ্রীপুণ্ডরীকধাম পুনরুদ্ধার করেন এবং চট্টগ্রামের এই পুন্যক্ষেত্রে শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দের সেবার ভার গ্রহণ করেন। 


17. ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজ শ্রীগৌরাঙ্গের পবিত্র  লীলাভূমিতে শুরু করেন ‘নবদ্বীপ মণ্ডল পরিক্রমা’ উৎসব, যা বর্তমানে ভক্তসমাজে তুলনাহীনভাবে সমাদৃত এবং প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের হাজার হাজার ভক্তের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে এই নবদ্বীপ মণ্ডল পরিক্রমা উৎসব। 


18. ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ৫০০ তম আবির্ভাব তিথিতে শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজ ৬০০০ কিলোমিটার ব্যাপী ইস্কন পদযাত্রার উদ্বোধন করেছিলেন। 


19. ২০০৮ খ্রিসাব্দের প্রথম দিকে শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজ বিশ্বের শতাধিক দেশের কৃষ্ণভক্তদের সমন্বয়ে এদেশে এক ঐতিহাসিক সাফারির আয়োজন করেন। আমেরিকা, চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, চিলি, ইকুয়েডর, কানাডা, থাইল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্য এবং পেরুসহ বিশ্বের সকল দেশেই তিনি নিরলসভাবে ভ্রমণ করে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করছেন। 


20. তিনি আজও নিরলসভাবে তিনি সারা বিশ্বে হরিনাম প্রচার করে চলেছেন; বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে তুলছেন শ্রীকৃষ্ণ মন্দির। এমনকি করোনাকালীন মহামারীতেও তিনি ডিজিটাল জুমের মাধ্যমে অনলাইনে প্রচারকার্যে তিনি এক বিপ্লব এনেছেন।  শ্রীগুরুপাদপদ্মে এমনই এক নিবেদিতপ্রাণ শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজ।  


21. শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজ ইস্কনের সদস্যরূপে, শ্রীল প্রভুপাদের শিষ্যরূপে, ইস্কনের দীক্ষাগুরুরূপে, জি.বি.সি. সদস্যরূপে, শ্রীধাম মায়াপুরের উন্নয়নকল্পে, ইস্কন সন্ন্যাসীরূপে এবং মায়াপুর চন্দ্রোদয় মন্দিরের ব্যাবস্থাপনা পদে অত্যন্ত দৃঢ় নিবদ্ধভাবে অগণিত কার্যাবলী সাধন করে চলেছেন তাঁর প্রাত্যাহিক জীবনে

কোন মন্তব্য নেই

merrymoonmary থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.