চূড়াকরণ

 


চূড়াকরন অর্থাৎ শিশুর মস্তক মুণ্ডন উৎসব।

প্রয়োজনীয় উপকরন

১) সাধারন যজ্ঞ উপকরন (পৃ ৩৬২)

২) কুশ ঘাস

৩) তামার ক্ষুর (সম্ভব না হলে ছোট দর্পন)

৪) ঈষদ উষ্ণ জল সহ একটি কাঁসার পাত্র

৫) নাপিত (যিনি শিশুর মস্তক মুণ্ডন করবেন)

৬) বৃষ গোময় (ষাঁড়ের গোবর)

৭) তিল, চাল ও উড়র ডাল দিয়ে তৈরী খিচুরী একটি পাত্রে।

৮) চাল ও যব দ্বারা পূর্ণ তিনটি ছোট পাত্র।

৯) তিল, চাল ও উড়ুর ডাল মিশ্রিত তিনটি পাত্র। (রান্না করা নয়)

 

· কুলাচার অনুসারে প্রথম, তৃতীয় অথবা পঞ্চম বর্ষে চূড়াকরন কর্তব্য। (শিশুর প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের মাঝে সবচেয়ে ভালো সময়)।

· পিতা প্রথমে প্রাতঃস্নান করে ভগবান এবং বৈষ্ণবদের অর্চন পূর্বক সাত্ত্বিকবৃদ্ধি শ্রাদ্ধ (পৃ-৩৪০)  করবেন। তারপর সত্য নামক অগ্নি স্থাপন করে বিরুপাক্ষজপ শেষ করে কুশণ্ডিকা (পৃ ১২৭) সমাপ্ত করবেন।

· তারপর বিরুপাক্ষ জপ শেষ করে ২১টি পিঞ্জলি (কুশন্তর বেষ্টিত প্রাদেশ প্রমান কুশপত্রদ্বয়) ৭টি করে  তিনটি ভাগে ভাগ করে অগ্নির দক্ষিন দিকে রাখতে হবে। পিঞ্জলির তিনটি গুচ্ছ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে সেগুলির উপরে কিছু কুশঘাস দ্বারা। কুশঘাসের ডগা গুলি পূর্বদিকে মুখ থাকবে। পিতা গরম জল সহ কাঁসার পাত্র এবং তাম্র নির্মিত ক্ষুর অথবা তদভাবে দর্পণ সেখানে রাখবে। নাপিত যে শিশুকে মুণ্ডন করবেন তিনি অগ্নির দক্ষিন দিকে একটি লৌহ নির্মিত ক্ষুর (সাধারন ক্ষুর) নিয়ে অবস্থান করবেন।

· অগ্নির উত্তর দিকে বৃষ গোময় ও তিল-তুণ্ডুল-উড়ুর ডাল দ্বারা প্রস্তুত খিচুড়ী রাখতে হবে।

· অগ্নির পূর্ব দিকে চাল ও যব দ্বারা পূর্ণ তিনটি পাত্র এবং মিশ্রিত তিল-তণ্ডুল-উড়ুর ডাল দ্বারা পূর্ণ তিনটি পাত্র রাখতে হবে।

· তারপর মাতা শিশুকে শুদ্ধ বস্ত্রে আচ্ছাদন করে কোলে নিয়ে অগ্নির পশ্চিম দিকে পতির বাম পাশে উত্তরাগ্র কুশাসনে পূর্বমুখী হয়ে বসবেন।

· তারপর পিতা একটি প্রাদেশ প্রমান কাঠ ঘিতে ডুবিয়ে নিরবে (অমন্ত্রক) অগ্নিতে প্রদান করবেন এবং ব্যস্তসমস্ত- মহাব্যাহৃতি হোম সম্পন্ন করবেন।

ব্যস্তসমস্ত মহাব্যহৃতি হোমঃ-

নিম্নলিখিত ব্যহৃতি মন্ত্র উচ্চারন সহকারে অগ্নিতে ঘৃতাহুতি প্রদান করতে হবে।         

ওঁ ভূঃ স্বাহা ইদম্‌ বিষ্ণবে ইদম্‌ ন মম ।

ওঁ ভুবঃ স্বাহা ইদম্‌ অচ্যুতায় ইদম্‌ ন মম ।।

ওঁ স্বঃ স্বাহা ইদম্‌ নারায়নায় ইদম্‌ ন মম ।

ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ স্বাহা ইদম্‌ অনন্তায় ইদম্‌ ন মম ।।

 

· তারপর পিতা শিশুর মাতার পিছনে পূর্বমুখ হয়ে দাঁড়িয়ে ক্ষুর হস্ত নাপিতের দিকে তাকিয়ে শ্রীভগবানকে অন্তরে ধ্যন করে নিম্নলিখিত মন্ত্র উচ্চারণ করবেন।

             ওঁ আ অয়মগাৎ সর্বেশ্বরঃ শ্রীভগবান্‌ কুরু কুমারম্‌ /

             এনং অবতু বৈ মুণ্ডনং মন্ত্রাবশয়িনা ক্ষুরেণ ।।১।।

· তারপর উষ্ণজলের কাঁসার পাত্রের দিকে তাকিয়ে অন্তরে শ্রীভগবানের চিন্তা করে নিম্নলিখিত মন্ত্র জপ করবেন।

             ওঁ আ অয়ম অগাৎ শ্রীবিষ্ণুঃ, কুরু কুমারম /

             এনং অবতু বৈ মুণ্ডনং উষ্ণোদকেন ।।২।।

· তারপর উষ্ণ জল সহ কাঁসার পাত্রটি ডান হাতে নিয়ে শিশুর ডান কানের উপরের অংশ ভিজাবে নিম্নলিখিত মন্ত্র উচ্চারন সহকারে।

             ওঁ আপ উন্দন্তু জীবসে ।।৩।।

· তারপর তামার ক্ষুর অথবা দর্পনের দিকে তাকিয়ে নিম্নলিখিত মন্ত্র উচ্চারন করবেন।

             ওঁ বিষ্ণোঃ দংষ্ট্রোহসি, কুরু কুমারম্‌

এনং অবতু বৈ বিষ্ণু সাক্ষাৎ মুণ্ডনং ক্ষুর ।।৪।।

· তারপর উষ্ণজল সিক্ত শিশুর ডান কানে কুশবদ্ধ সাতটি দর্ভপিঞ্জলি ঊর্ধ্বমূল করে স্থাপন করবেন নিম্নলিখিত মন্ত্র উচ্চারন সহকারে।

             ওঁ অচ্যুতানন্ত নারায়ণাঃ কুর্বন্ত কুমারম্‌

             এনং চিরজীবিনং, ঔষধে ত্রায়স্ব এনম্‌ ।।৫।।

· তারপর ডান কানের ঐ দর্ভপিঞ্জলি বাম হাতে ধরে রেখে ডান হাতে তামার ক্ষুর বা দর্পন শিশুর ডান কানের উপরে (শিখা স্থান ও কানের মাঝামাঝি স্থানে) স্থাপন করবেন নিম্নলিখিত মন্ত্র উচ্চারন সহকারে।

             ওঁ সঙ্কর্ষণঃ কুরুঃ কুমারম্‌

             এনং অবতু বৈ মুণ্ডনং, স্বধিতে মা এনং হিংসীঃ ।।৬।।

· তারপর শিশুর মাথার কেশ যাতে না কাটে এরকম ভাবে সেই ক্ষুর চালনা করবেন নিম্নলিখিত মন্ত্র উচ্চারন সহকারে।

             ওঁ যেন পুরুষোত্তমঃ বাসুদেব বিষ্ণোরচ্যুতস্য চাবপৎ /

             তেন তে বপামি বৈকুণ্ঠেন জীবাতবে জীবনায়

             দীর্ঘায়িষ্ট্বায় বলায় বর্চসে ।।৭।।

বিনা মন্ত্রে আরও দুবার উহা পরিচালিত করবেন।

· তারপর লৌহ ক্ষুর (সাধারন ব্লেড) দ্বারা ডান কানের উপরের কেশ ছেদন করে দর্ভপিঞ্জলি সহ বৃষ গোময়ের উপর ফেলতে হবে। নিয়মানুসারে বৃষ গোময়ের পাত্রটি শিশুর কোন বন্ধু কর্তৃক ধরতে হয়।

· তারপর শিখা স্থানের নিচের কেশ ছেদনের সময়ও পুনরায় ঐ মন্ত্র গুলি যথাক্রমে ১) নাপিত দর্শন ২) কাঁসারপাত্রে উষ্ণ জল দর্শন ৩) কানের উপরের কেশ ভিজানো ৪) তাম্র ক্ষুর বা দর্পন দর্শন ৫) কানের উপরে দর্ভপিঞ্জলি স্থাপন ৬) কানের উপরে তাম্র ক্ষুর বা দর্পন স্থাপন, ৭) সেখানে ক্ষুর বা দর্পন পরিচালনা করবেন এবং বিনা মন্ত্রে দুইবার ক্ষুর বা দর্পন পরিচালন এবং লৌহ ক্ষুর দ্বারা শিখার নীচের কেশ ছেদন করে উপরের মতো একইভাবে বৃষ গোময়ের উপর ফেলতে হবে।

    তারপর সেই একইভাবে একই নিয়মে বাম কানের উপরের কেশও ছেদন করে পূর্বের মতোই বৃষ গোময়ের উপরে নিক্ষেপ করতে হবে।

· তারপর পিতা দুই হাতে শিশুর মস্তক ধারন করে নিম্নলিখিত মন্ত্র উচ্চারণ করবেন।

ওঁ জমদগ্নেস্ত্র্যায়ুষং / ওঁ কশ্যপস্য ত্র্যায়ুষং / ওঁ অগস্তাস্য ত্র্যায়ুষং / ওঁ যদ দেবানাং ত্র্যায়ুষং / ওঁ তত্তেহস্তু ত্র্যায়ুষং ।।

· তারপর পিতা শিশুকে অগ্নির উত্তর দিকে নিয়ে আসবে। নাপিত একটা ফুলের মালা পরিহিত থাকবেন। তারপর শিশুকে পূর্ব অথবে উত্তর দিকে মুখ করে নাপিত মুণ্ডন করবেন শিখা রাখবেন। সমস্ত কেশ বৃষ গোময়ের উপর নিক্ষেপ করে বনে অথবা বাঁশের শাখায় স্থাপন করবেন।

· এই সময় কর্ণভেদ করা যেতে পারে। (এপেনডিক্স ৩)

· তারপর পিতা ব্যস্তসমস্ত- মহাব্যাহৃতি হোম সম্পন্ন করবেন।

ব্যস্তসমস্ত মহাব্যহৃতি হোমঃ-

নিম্নলিখিত ব্যহৃতি মন্ত্র উচ্চারন সহকারে অগ্নিতে ঘৃতাহুতি প্রদান করতে হবে।         

ওঁ ভূঃ স্বাহা ইদম্‌ বিষ্ণবে ইদম্‌ ন মম ।

ওঁ ভুবঃ স্বাহা ইদম্‌ অচ্যুতায় ইদম্‌ ন মম ।।

ওঁ স্বঃ স্বাহা ইদম্‌ নারায়নায় ইদম্‌ ন মম ।

ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ স্বাহা ইদম্‌ অনন্তায় ইদম্‌ ন মম ।।

 

তারপর একটি প্রাদেশ প্রমান কাঠ ঘিতে ডুবিয়ে নিরবে (অমন্ত্রক) অগ্নিতে প্রদান করবেন।

· তারপর বামদেব্য গান, শাট্যায়ন হোম এবং উদীচ্য কর্ম (পৃ ১৮৭) সমাপন করবেন। তারপর আমন্ত্রিত ব্রাহ্মন ও বৈষ্ণবদের দক্ষিনা প্রদান করবেন।

· তারপর সমস্ত বৈষ্ণব ও অতিথিদের প্রসাদ পরিবেশন করবেন এবং খিচুরী, যব, তিল, তণ্ডুল, উড়ুর ডাল এগুলি নাপিতকে দিয়ে দেবেন।

 

চূড়াকরণ সমাপ্ত

কোন মন্তব্য নেই

merrymoonmary থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.