নিষ্ক্রামন
নিষ্ক্রামন
অর্থাৎ শিশুকে জন্মের পর প্রথমবার বাহিতে নিয়ে যাওয়া।
· শিশুর
জন্মের পর তৃতীয় শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এই অনুষ্ঠান করা হয়।
· প্রাতঃকালে
শিশুকে স্নান করাতে হবে এবং সূর্যাস্তের পর পতি-পত্নী সন্তানকে নিয়ে ভগবানের
মন্দিরে যাবেন। স্বামী-স্ত্রী ভগবানের দিকে মুখ করে দাঁড়াবেন। স্ত্রী থাকবে
স্বামীর বাম দিকে। শিশুকে একটা শুদ্ধ বস্ত্র আচ্ছাদন করা থাকবে।
· এরপর
স্ত্রী সেই শিশুকে তার স্বামীর হাতে দেবেন এবং তারপর স্ত্রী তার স্বামীর পিছন দিয়ে
গিয়ে স্বামীর ডানদিকে ভগবানের দিকে মুখ করে দাঁড়াবেন।
· তারপর স্বামী
নিম্নলিখিত তিনটি মন্ত্র উচ্চারন করবেন এবং শিশুকে ভগবান দর্শন করাবেন।
ওঁ একঃ পুরস্তাৎ য ইদং বভূব,
যতো বভূব ভুবনস্য গোপ্তা।
যং অপ্যেতি ভুবনাং সাম্পরায়ে,
নমামি তং অহং সর্বতোমুখম্।
তৎ প্রভো সর্বতোমুখম্
নাহং পৌত্রং অঘং নিগাম্ ।।১।।
ওঁ য আত্মদা বলদা যস্য বিশ্বে
উপাসতে প্রশিষং যস্য দেবাঃ।
যস্য ছায়া অমৃতং যো মৃত্যুমৃত্যুঃ
কস্মৈ দেবাইয় হবিষা বিধেম।
তস্মাৎ প্রভো মৃত্যুমৃত্যো
নাহং পৌত্রং অঘং ঋষম্ ।।২।।
ওঁ নরনারায়ণৌ শর্ম যচ্ছতং / প্রজায়ৈ
মে প্রজাপতি।
যথায়ং ন প্রমীয়েত / পুত্রো জনিত্র্যা
অধি।। ৩।।
· এরপর পিতা
নিম্নলিখিত মন্ত্র দ্বারা ভগবানকে অর্ঘ্য প্রদান করবেন।
ওঁ কৃষ্ণ মাধব গোবিন্দ
পুণ্ডরীকাক্ষ বামন।
গৃহ্নীতার্ঘ্যং হৃষীকেশ রময়া সহিতো
মম।।
· এরপর পিতা
শিশুকে তার মাতার কোলে দেবেন এবং বামদেব্য (পৃ – ৩৬৬) গান করবেন। তারপর তারা শিশুকে নিয়ে গৃহে প্রবেশ
করবেন।
· এরপর পরপর
তিনটি শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে সন্ধ্যার পরে পিতা ভগবানের নিকটা যাবেন এবং
ভগবানকে দর্শন করে নিম্নলিখিত মন্ত্রে তিন বার পুষ্পাঞ্জলী প্রদান করবেন।
ওঁ যস্মাৎ ন জাতঃ পরো অন্যে
অস্তি,
য অবিশেষ ভুবনানি বিশ্বা।
প্রজাপতিঃ প্রজয়া সংবিদানঃ
ত্রীণি জ্যোতীংষি সচতে সষোড়শীম্।
এতৎ বিদ্বান্ মহাবিষ্ণো
নাহং পৌত্রং অঘং রুদম্।।
· এরপর পিতা
বামদেব্য গান করে গৃহে ফিরে যাবেন। (পৃ – ৩৫৬)।
এই সময় পত্নী ও শিশু সন্তান না থাকলেও হবে।
সামবেদীয়
নিষ্ক্রামন সমাপ্ত

কোন মন্তব্য নেই