দশবিধসংস্কার
সমাজে আত্মশোধন জনিত বৈদিক অনুষ্ঠান ব্যাপারকে সংস্কার বলা হয়। এই সংস্কার মূলতঃ
দশরকমেরঃ-
১) বিবাহ–অগ্নি, ব্রাহ্মন, দেবতার সামনে বরওবধূপরস্পর একে
অন্যের জীবনের দায়িত্ব বহন করার সংকল্প করে থাকেন। সমাজের অন্যদের কাছে মঙ্গল আশীর্বাদ
গ্রহন এবং সবার প্রীতি বর্ধনের জন্য সংকল্প করেন।
২) গর্ভাধান–কায় মনো বাক্যে
পবিত্র থেকে সুসন্তান লাভের জন্য দম্পতি নির্ধারিত সময়েমিলিত হন এবং তার আগে ভগবৎমন্দিরে
গিয়ে তারা হরিনাম জপ করেন এবং সুসন্তান প্রার্থনা করেন।
৩) পুংসবনঃ–বধূর প্রথম গর্ভের
তৃতীয় মাসের আরম্ভে শুভ দিনে বধূওবর প্রাতঃস্নান সেরেহরি পূজা ও বিশেষ হোম যজ্ঞ সম্পাদন
করেন।
৪) সীমন্ত উন্নয়নঃ- বধূর প্রথম গর্ভের
চতুর্থ, ষষ্ট বা অস্টম মাসে হরিপূজার পর বিশেষ হোম যজ্ঞ, বধূর কন্ঠে কৃষ্ণ চরন
চিহ্ন যুক্ত ধাতু, নিম, সরিষা, বচ প্রভৃতি পট্টসূত্রে বেঁধে বধূর কন্ঠে বা বাহুতে
বেঁধে দেন রক্ষাকবচ রূপে।
৫) জাত কর্মঃ- সন্তান জন্ম হলে পিতা, ধাত্রী প্রভৃতি ব্যাক্তিদের করনীয় বিষয়।
৬) নামকরনঃ- সন্তান জন্মের দশ রাত্রিতে সন্তানের রাশি অনুসারে নামকরন করা হয়।
সেই নামটি পুত্রের ক্ষেত্রে ভগবানের কোনো একটি নাম এবং কন্যার ক্ষেত্রে রাধারানী
বা লক্ষ্মীদেবীর কোনো একটি নাম শোভনীয়।
৭) অন্নপ্রাশনঃ- পুত্রের ষষ্ট বা অস্টম মাসে, কন্যার পঞ্চম বা সপ্তম মাসে
শ্রীহরি ও বৈষ্ণবদের সেবা পূজা সম্পন্ন করে বাচ্চাকে পায়েসান্ন খাওয়াতে হয়।
৮) চূড়াকরণঃ- পুত্রের প্রথম, তৃতীয় বা পঞ্চম বর্ষে, কন্যার দ্বিতীয় বা চতুর্থ
বর্ষে মাথার কেশ মুন্ডন করা হয়।
৯) উপনয়নঃ- এই অনুষ্ঠানে পবিত্র সূত্র, কাঞ্চীসূত্র পরানো হয়। হরিপূজা
ভক্তসেবা নববস্ত্র ধারন এবং যজ্ঞ উপবীত দেওয়া হয়। এদিন গুরু আশ্রয়ে থেকে জীবন গঠন
করার যাবতীয় শিক্ষা গ্রহন করতে হয়।
১০) সমাবর্তনঃ- গুরুকূল স্কুলে অধ্যায়ন ও ব্রহ্মচর্য ব্রতে থেকে গুরুদক্ষিনা
দিয়ে গৃহে ফিরে এসে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান করা হয়।
-------ভগবৎ
দর্শন, নভেম্বর ২০১৯
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই